Shongkochur Emam

শূন্যানন্দ

Posted 12 months ago

804 total views, 1 views today

আসলে রুদের ও আমাদের গ্রাম এক নয়। কিন্তু রুদের বাড়ি যে আমাদের গ্রামে খোয়াবে আজ তাই দেখলাম।

সন্ধ্যার একটু পর। আমার মা আমাকে ডেকে রুদের বাড়িতে আনেন। আমি মাটিতে হেঁটে যাই নি। শূন্যে উচ্চ লম্ফের মতো জাম্পিংয়ে জাম্পিংয়ে পথ অতিক্রম করেছি। শূন্যে হেটে যাওয়ার মতোও বলা যেতে পারে। তবে উড়ে যাওয়া নয় কিন্তু। গিয়ে দেখি মা রুদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন। আমাকে মা বলে- ধরো কাজগুলো সামলাও। এসব কাজ তোমারই। এ বাড়িতে তেমন লোক নেই। আজ অনেক কাজ, আজ রুয়ের বিয়ে। তাকে বধূ সাজিয়ে বর নিতে আসবে। অনেক আনন্দ, অনেক কাজ।

আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। মাকে জিজ্ঞেস করলাম- আমাকে কেনো ডাকা হলো, এসব আমার ভাল্লাগছে না। আমি এখান থেকে যেতে চাই। মা বললো- রুয়ের মা তোমাকে ডাকতে বলেছেন। তিনি বলছেন- রুয়ের বিয়ের কাজ যেন তুমি সব সামলাও।

ঘর ঝাড়– দেয়া, বিছানা গোছানো, রান্নায় সহযোগিতা, আলোকসজ্জ্বা, অতিথিদের গ্রহণ ও আপ্যায়নসহ যাবতীয় কাজের ব্যবস্থাপনায় লেগে পড়লাম। এক সময় হাপিয়ে পড়ি। আমার সিগারেট খেতে ইচ্ছে করলো। আগের মতোই শূন্যে জাম্পিঙ করে করে দোকানে যাই। সিগারেট নিয়ে রুদের বাড়ি ফিরে আসি। অবশ্য তখনও রু বধূ সাজেনি। অতিথিরা আসতে আরেকটু সময় লাগবে হয়তো। আমি বাড়ির আঙ্গিনায় গিয়ে সিগারেট টানছি। রু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। পরে আড়ালে গিয়ে সিগারেট শেষ করি।

অতিথিরা এসে গেছেন। বাড়িতে উৎসব আমেজ। বর এসেছে বর এসেছে। অতিথিদের বসতে দেয়া হলো। প্রতিবেশিরাও এসে গেছেন। কিছু লোক নানা গুঞ্জন করছে। বর ভালো পেয়েছে, বর একটু কেমন জানি। বাচ্চারা ছোট ছোট বেলুন নিয়ে খেলছে। কেউ কান্না করছে, তাদের মায়েরা থামাতে মুখে স্তন গুজে দিচ্ছে। রুয়ের মা ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। আমার মা ঘন ঘন আমার দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছেন। কেন তাকাচ্ছেন কে জানে?

রুকে অবশেষে বধূ সাজিয়ে একটা মাইক্রোবাসে তুলে দেয়া হলো। আমি বাড়ি ফিরবো। রুদের বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি যেতে তিন রাস্তার মোড় বাজে। আমি আগের মতোই জাম্পিঙি করে করে যাচ্ছিলাম। তখন অন্ধকার আরও ঘন ছিলো। ঝিঁ ঝিঁ পোকাদের ডাক শোনা যাচ্ছে। তিন রাস্তার মোড়ে এসে মাটিতে পা রাখতে ইচ্ছে হলো। মাটিতে দাঁড়িয়ে একটু হাপ ছাড়ছিলাম আরকি! তখন তিন চার হাত দূরে দেখি তিনটি রঙিন পরী দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে তারা হাল্কা হাওয়ায় পা এবঙ সিনা নেড়ে নেড়ে নাচছে। ঘাড় নাড়াতেই দেখি আরও একটা পরী আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। পরীদের শরীরে গজার মাছের মতো ছোটা ছোট রঙিন ফোটা। দেখতে খুব দারুণ লাগছিলো। ওই তিনটা পরী খুব করে নাচছে। হাসছে। তাদের ঘন কালো দীঘল চুল বাতাসে হাল্কা উড়ছিলো। আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরীটা আমাকে ধরতে চাচ্ছিলো। ওই তিনটা পরী তাকে ধমকানি দিয়ে বারন করেছে। পরে এ পরীটা চলে যায়। আমি হেসে দিয়ে আবার জাম্পিঙ করে বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম। মূল রাস্তা- যেটা দিয়ে সব ধরনের গাড়ি চলাচল করে। সেই রাস্তায় উঠলাম। রুদের বহন করা মাইক্রোবাসটা দেখি দাঁড়িয়ে আছে। দেখে আমি জাম্পিঙ বন্ধ করে রাস্তায় পা রাখলাম। বেশ কয়েকজন মানুষও গাড়ি ঘিরে দেখা যাচ্ছে। রু চালকের পাশে বসা। ওর বর ভেতরে বসা। কেউ কিছু বলছে না। আমি তাকিয়ে দেখি রু মন ভারি করে বসে আছে। এক সময় আমার দিকে তাকিয়ে রু কেঁদে দেয়! তখন আমি জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করি। সবাই তাকিয়ে থাকে। আমি রুয়ের কাছে হেরে গেছি না রু আমার কাছে হেরে গেছে- এমন ভাবতে ভাবতে জাম্পিঙয়ে প্রস্থান করি-

বিষয়: খোয়াব (খোয়াব দেখার সময় ১.০৪.২০১৯, দিবাগত রাত)

নাম: শূন্যানন্দ

লেখক: শঙ্খচূড় ইমাম

অলঙকার: সঙগৃহীত

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •