Shongkochur Emam

রু সিরিজের নতুন কবিতা

Posted 6 months ago

1,194 total views, 5 views today

ভেবেছি

ভেবেছি রু ও আমি রাইফেল কাঁধে নিয়ে
ঢুকে যাবো নিরহ বনে এবঙ
পশু-পক্ষীর দিক তাক করে চেয়ে থাকবো

উড্ডীন—যেখানে একটি স্কুল
সক্ষম ভাষা বিস্তারে জন্ম হয় আয়ু
আমরা সেইসব ক্ষিপ্র সন্ধানের কথা
মানুষের কাছে বলে বলে রাষ্ট্র করে দেবো

যেহেতু মানুষ নিজেকে নিজে ক্রস মেরে
লিপ্ত হয় করুন সঙ্গমে—

এই গল্পটি কখনও বলবো না

রু এবঙ আমি একটি করে বন্দুক চুরি করতে থাকলাম
এই গল্প কাউকে বলবো না
আমাদের প্রস্তুত বলতে শোবার ঘরের সুরক্ষা নয়

তখন আগুনমুখা হেঁটে হেঁটে
ময়নামতির চরে গিয়ে থামে।
আগুনমুখার সব আগুন ময়নামতিতে গিয়ে নিভে যায়।

রু যখন আগুন জ্বালাতে পারেনি
তখন আমাকে বন্দুক চুরিতে প্ররোচিত করে

রু চেয়েছিলো ময়নামতিতে যেন
প্রতিদিনই সূর্য ডুবে
এমন হাস্যকর চিৎকার দেখে
আমার বন্দুক থেকে একটি গুলি বের হয়ে যায়!

আমি এই গল্পটি কখনও বলবো না।

অলঙকার: শঙ্খচূড় ইমাম

গেঁথে যাচ্ছে

এটা বিশেষত তীর দর্শন এবঙ স্বীকৃতির সংযম
অলৌকিক ভেবে বিস্তৃত করেছি অসম্ভব!
যে কোনও ভাষার অর্থ বিন্যাসে
জীবনের উন্মুক্ত জিজ্ঞাসও নাও থাকতে পারে।

ঘরের নিচতলায় থেকে যদি তৈরি করা যায়
বসন্তের অই সমস্ত মালা
কিঙবা আপনি যদি এটি করেই ফেলেন
কোনোদিনই তা আত্মজীবনী বলে
উদযাপিত বিরল ঘটনা হয় না!

আমরা উপরের তলায় থেকেই
নিচের গাঁথা মালাগুলো তাকিয়ে তাকিয়ে
দেখেছি বলে, হাসপাতালের মতো
অসংখ্য বিদ্যালয়ের অর্থবহ জীবন
উড়ে গেছে আকাশের দিকে

রু শুধু ফুল ফুটিয়ে যাচ্ছে
আমি সুতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি
আর মাঝ পথে গেঁথে যাচ্ছে
মানুষে মানুষ!

আমাদের কোনো স্বপ্ন ছিলো না

রু মা হওয়ার ভান করে যাচ্ছে
প্রকৃতপক্ষে রু মা হতে পারবে না
এমনকি বাবাও!

রু কেবলমাত্র মানুষের জন্য দীক্ষা
প্রকৃতির জন্য প্রকৃতির শ্বাস
সমস্ত প্রসংসার বিন্যাসিত বীজ

আমার আগুন জ্বালাতে চেয়েছিল রু
এটা ছিলো সৌভাগ্যের সামিল
যা পর্দায় সহিংসতার মতো
নৃত্য করে ঠিকানাহীন

আমাদের কোনো স্বপ্ন ছিলো না
আমরা শুধু যার যার পথে বেরিয়ে
তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি
দুশ্চরিত্রা অনাহারে না থেকেও
কি সুন্দর অনাহারী দেখাচ্ছে!

মানুষের উচিৎ


উৎস থেকেই পথের তরে যে সকল চাকা
আমি এবঙ রু গড়িয়ে দিয়েছি
এমনকি আপনিও এসবের দিকে যতটুকু
প্রবণতা রেখেছেন
তাতে একটি মাত্র উলঙ্গ উহ্য অজ্ঞাত ভাবেই
নিতে পারিনি।

এমনকি নদী চিনতে গিয়ে
মাছদের হৃদয় দিয়ে সাঁতরে উঠেছি
তিতিপাখির বন অব্দি

আমি এসব বলতে না চাইলেও
ডুবুরিরা রাষ্ট্র করে দিতে জানে
অই উলঙ্গ চোখ!

মানুষের উচিৎ উৎসে থেকেই
উৎসের কথা ছড়িয়ে দেয়া

শুধু বলতে চেয়েছিলাম

শস্যবাহক থেকে জেনেছি
দুঃখ কেবল দুঃখ নয়
সুষম বন্টনের প্রচারও

আদতে রু এসবই খুঁজছে
যেখানে এমন সন্ধানের রহস্য
রু বহুবার ছুঁয়ে দেখেছে
তবু তাকে অনুধাবন করতে দেয়নি
অই সমস্ত ফসলের দেবতা!

আমি শুধু তাকে অনুধাবনের কথা বলতে চেয়েছিলাম!

দান

চাঁদের উজ্জ্বল আলো সমেত
বহির্মুখী কথার কার্ফিউ ভেঙে
আমাদের সংবেদনগুলি যখন সাজিয়ে ফেলি
মনে হয় জীবন এক আনার ফলের ছোট ছোট দানা

যেখানে অসুখের নাম করে
দীক্ষা দূরে রেখে মুক্তির বাসনায়
নামিয়ে আনি দৃশ্যত দ্বার

আদতে সংবেদন উপচে পড়ে, উপচে পড়ুক
কেবল কৃষিহৃদ থেকে যেন তা দূরে নয়

রু এমন দীক্ষা দান করেছেন
যেন সকল দ্বার আটকে গিয়ে
খুলে গেছে বাঘ ও হরিণের মধ্যবর্তী দূরত্ব!

স্বাক্ষর

গভীর নীল শব্দ করে ডাকে, যেন
ঠান্ডা মেঘের চেয়ে অধিকতর খাম
খামভর্তি ভেজা ভেজা ঘর

আর কাঁদতে পারি না। এটাই কাঙ্খিত নিরীহ রক্ত
আর শুনতে পারি না। এটাই শিশুযোগ মা-সুখ

একদিন অনিবার্য ক্ষতি থেকে ফেরাবে
যা সীসার ঝলকানো গ্রহণে সক্ষম সেই
জন্ম সূচনা ঋতুর একটি গাছ

যখন মানুষেরা আর যুদ্ধ করবে না
যখন মানুষের আর দীক্ষা থাকবে না

আমি স্বীকার করে বলছি
গাছ হেঁটে হেঁটে সমুদ্রে নেমে যাবে
মাছ হবে গাছের ফলফলাদি!

রু, মা এবঙ একটি এপিটাফের গুজব

তারা মারা যেতে পারতো যথেষ্ট কারণে
তা না করে মিথ্যে রাইফেলিং নিয়ে
গুজব ছড়িয়ে দিলো গোরস্তান পাড়ায়

এপিটাফের দিকে কেউ চোখ পর্যন্ত রাখেনি
এমনকি কন কনে শীতের সেই রাতে
মায়ের মতো চাদরও পড়েনি

দূর থেকে দাঁড়িয়ে
রুকে একটি এপিটাফের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই
মা সেটি পছন্দ করেছেন এবঙ
তাদের দলবেধে ছড়ানো গুজবের দৃশ্য দেখে
মা বলেছেন তুমি যা বহন করছো
তা তুমি ছুঁতে পারবে না বলেই
এত সুন্দর হয়ে উঠছে ক্রমশ..

আমি এবঙ রু

জিজ্ঞাসার সুন্দরেই ক্ষমাশীল থাকলে
ভালো মানুষের ঘরের বৈশিষ্ট্য
আভাস পাওয়া যায়
তার চেয়েও ভালো হতে পারে
পাগলকে নগদ অর্থ দান করে
নিজের পরিচয় প্রকাশ করা

চাঁদ রাতে আপনার গৃহপালিত প্রাণিদের
কিছু নীল মার্বেল ছুঁড়ে
বিষয়টি পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
কিঙবা এই ধরণের প্রেম স্পর্শ করতে
নিদ্রাভঙ্গ ঋতুতে মাটির পাত্রে
মায়ের সঙ্গে জ্বালাতে পারেন রঙিন মোমবাতি

আমি এবঙ রু এসবের কিছুই করিনি।

একই চোখ দিয়ে
মানুষের রক্ত এক করে দেয়ার উদ্দেশ্য যখন
পরস্পর বুঝে যাই
আমরা উভয়ই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি!
কেননা প্রকৃতির পরিচয়ই হচ্ছে
উদ্বিগ্ন পথ

অলঙকার: শঙ্খচূড় ইমাম

সব পাখি সরকারি হওয়ায়

আমি এবঙ রু একই বাগানের বাসিন্দা
এখানের সব পাখি সরকারি হওয়ায়
উভয়ই পাখিদের গতিবিধি নিয়ে
তাড়াহুড়া করে যাচ্ছি অহর্নিশ

আমি ভাবছি নৈকট্য, রু ভাবছে দূর
ফলত মাধ্যমিক উচ্চতা নিয়েই
আমাদের বাগানের সব পাখি
প্রতিদিন নতুন করে সরকারি হয়

এভাবে করতে করতে
দুজনেই পৃথক ঋতুতে
পৃথক পৃথক কাছে আসি
আর পাখিরা নেমে আসে আকাশ আকাশ দূরে

আমরা আসলে ভেবেছি

চোখের আশ্চর্যের প্রতি বিশ্বাস রাখতেই হয়
তা না হলে, না দেখা বাগানের মাধুর্য উদ্ধারে
ভুল হয়ে যাবে অস্বাভাবিক দীর্ঘে

পায়ের সিদ্ধান্তও একই রকম হতে পারে
যা দৃশ্যমানের চেয়েও আঘাতের আস্থা বেশি

কেউ কেউ ইচ্ছে মাফিক জিহ্বার কিছু স্বস্তি
উচ্ছেদ করে দেয় ফল কাটা ছুরির মতো
কিঙবা উজ্জ্বল মাছের আঁশ ছড়ানোর লোভ থেকে
দীক্ষা তোলে শরীর দেখার কৌশল

রু এবঙ আমি এক সঙ্গে ভ্রমণে না গিয়েও
মাছের আশ্বার্য চোখ, মানুষের আঙুলের ছাপ
এবঙ লিপ্সার আনন্দ দেখেছি

আমরা আসলে ভেবেছি
জোয়ারের মতো জোয়ার এবঙ
ভাটার মতো ভাটা এসে
নিয়ম অব্যহত থাকুক

আছে নেই

ঘরে ভাত না থাকা অলঙ্কার নয়
যতটা সুন্দর চাষযোগ্য মাটিতে
ফসল না হওয়ার তীব্র ব্যথা

শূন্যতারও বিচ্ছিন্নতা থাকে
থাকে অবিচ্ছেদ্য অভিপ্রায়

মানুষের স্বপ্নগুলো প্রস্তাবিত না হয়ে
সরাসরি নিঃশেষে বিভাজ্য হলে
শূন্যতার বিন্যাসিত সম্ভাবনায়
কোনোদিনই কেউ অনুতপ্ত হতো না

রু এবঙ আমার ঘরে
ভাত আছে, ভাত নেই
অভিপ্রায় নেই, অভিপ্রায় আছে
সম্ভাবনা আছে, নিঃশেষে বিভাজ্য আছে

অর্ধেকে অর্ধেকে

আমি এখন অর্ধেক কবুতরে বাস করছি
এখানের মৃতদেহগুলি কথা বলতে পারে
তাদের উভয় রকম স্তনের দিকে তাকালে
একটি নিখুঁত রাত কান্না করে দেয়

প্রকৃতপক্ষে রু পাখি ভালোবাসে
কবুতরও পাখির মতোই দেখতে
অবশ্য আমার আঁকা পাখিগুলো
কালো ও চিকন হওয়ার দুঃখে
তাদের বিমান নামে ডাকি! যেখানে
ছোট ছোট ডানা ও ইঁদুর এঁকে
বন্ধ করে দেই বিবেচিত সূর্যের আলো

অর্ধেক কবুতরে পূর্ণ মৃত্যু
অর্ধেক কবুতরে পূর্ণ জীবন

বিষয়: কবিতা, প্রসঙ্গ: রু সমগ্র, লেখক: শঙ্খচূড় ইমাম, ফিচার ছবি: সঙগৃহীত

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •